মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) বদলে যাওয়া চিত্র: এক নতুন দিগন্ত
আজকাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। প্রযুক্তির এই ক্ষেত্রটা দ্রুত গতিতে বদলে যাচ্ছে, আর এর প্রভাব পড়ছে তাদের অর্থনীতি, সমাজ আর দৈনন্দিন জীবনে। একসময় যা ছিল শুধু কল্পবিজ্ঞানের অংশ, এখন তা আমাদের বাস্তবতার অংশ হয়ে উঠেছে।
গত কয়েক বছরে, বিশেষ করে জেনারেটিভ AI আসার পর থেকে, AI এর চেহারাটা অনেকটাই পাল্টে গেছে। চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) বা মিডজার্নি (Midjourney)-এর মতো টুলগুলো সাধারণ মানুষের হাতে AI প্রযুক্তি এনে দিয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন শিল্পে নতুন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, যেমন কন্টেন্ট তৈরি, ডিজাইন, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইত্যাদি।
তবে, এই দ্রুত পরিবর্তনের সাথে কিছু চ্যালেঞ্জও আসছে। চাকরির বাজারে এর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কিছু কাজ হয়তো AI এর কারণে বিলুপ্ত হয়ে যাবে, আবার কিছু নতুন কাজের সুযোগও তৈরি হবে। সরকার, কোম্পানি আর সাধারণ মানুষ – সবাই এখন এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
নৈতিকতা এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়েও অনেক কথা হচ্ছে। AI সিস্টেমগুলো কীভাবে ডেটা ব্যবহার করছে, পক্ষপাতিত্ব (bias) আছে কিনা, বা এর নিরাপত্তা কেমন – এই বিষয়গুলো নিয়ে মার্কিন প্রশাসন বেশ সতর্ক। তারা এমন আইন ও নীতি তৈরির চেষ্টা করছে, যাতে AI এর সুফলগুলো কাজে লাগানো যায়, কিন্তু এর খারাপ দিকগুলো যেন নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
ভবিষ্যতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে AI এর ভূমিকা আরও বাড়বে বলেই মনে হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে শিক্ষা, প্রতিরক্ষা থেকে বিনোদন – সব খানেই AI এর ব্যবহার আরও ব্যাপক হবে। তবে, এই প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে তা মানবজাতির জন্য অনেক বড় আশীর্বাদ হতে পারে। আর ভুল পথে গেলে তা বড় বিপদও ডেকে আনতে পারে। তাই সচেতনতা আর সঠিক নীতির বাস্তবায়ন এখন সবচেয়ে জরুরি।
Post a Comment