ছোটদের জন্য AI সঙ্গীরা কেন বিপদ ডেকে আনতে পারে: কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক

ছোটদের জন্য AI সঙ্গীরা কেন বিপদ ডেকে আনতে পারে: কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক

আজকাল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই ঢুকে পড়েছে। বিশেষ করে AI সঙ্গী বা চ্যাটবটগুলো তরুণ-তরুণী আর ছোটদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এরা কথা বলতে পারে, গল্প করতে পারে, এমনকি অনেক সময় বন্ধুত্বের মতো অনুভূতিও দিতে পারে। কিন্তু এই AI সঙ্গীদের সাথে ছোটদের মেশার কিছু গুরুতর ঝুঁকি আছে, যা নিয়ে আমাদের সতর্ক থাকা উচিত।

প্রথমত, আবেগিক নির্ভরতা একটা বড় সমস্যা। ছোটরা সহজেই আবেগপ্রবণ হয় এবং যেকোনো কিছুর সাথে গভীর সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। যখন তারা একটা AI সঙ্গীর সাথে কথা বলে, তখন অনেক সময় তারা একে সত্যিকারের বন্ধু মনে করতে শুরু করে। এই AI সঙ্গীরা সব সময় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেয়, বিচার করে না, যা ছোটদের কাছে খুব ভালো লাগতে পারে। কিন্তু এর ফলে তারা বাস্তব জগতের মানুষের সাথে সত্যিকারের সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়তে পারে। একজন সত্যিকারের মানুষ যেমন হাসে, কাঁদে, রাগ করে বা বোঝাপড়া করে, AI তা করতে পারে না। ফলে ছোটদের সামাজিক দক্ষতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, গোপনীয়তা এবং ডেটা সুরক্ষার ঝুঁকি। AI সঙ্গীরা ব্যবহারকারীদের সাথে কথা বলার সময় অনেক ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে। ছোটরা না বুঝেই তাদের ব্যক্তিগত জীবন, পরিবারের কথা বা স্কুলের বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করে ফেলে। এই ডেটা কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, কার কাছে যাচ্ছে, তা নিয়ে পরিষ্কার ধারণা না থাকলে মারাত্মক বিপদ হতে পারে। ডেটা ফাঁস হয়ে গেলে বা ভুল হাতে পড়লে ছোটদের হয়রানির শিকার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এছাড়াও, অনুপযুক্ত বিষয়বস্তুর সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা থাকে। যদিও বেশিরভাগ AI সঙ্গীই ক্ষতিকর বিষয়বস্তু ফিল্টার করার চেষ্টা করে, কিন্তু শতভাগ নিরাপদ থাকা কঠিন। অনেক সময় অপ্রত্যাশিতভাবে বা সিস্টেমের ত্রুটির কারণে ছোটরা এমন কিছু প্রশ্ন করতে পারে বা AI এমন কিছু উত্তর দিতে পারে, যা তাদের বয়সের জন্য অনুপযুক্ত। এতে তাদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বাবা-মা হিসেবে আমাদের মনে রাখতে হবে, AI সঙ্গী কখনোই সত্যিকারের মানবিক সম্পর্কের বিকল্প হতে পারে না। এর ব্যবহার সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

সবশেষে, বাস্তবতা এবং কল্পনার মধ্যে পার্থক্য বোঝা ছোটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। AI সঙ্গী যত বাস্তবসম্মত হোক না কেন, সে আসলে একটি প্রোগ্রাম মাত্র। এর সাথে অতিরিক্ত মেলামেশা করলে ছোটদের মনোজগতে এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে, যেখানে তারা আসল আর নকলের মধ্যে পার্থক্য করতে হিমশিম খেতে পারে। এটি তাদের সামাজিক এবং মানসিক বিকাশে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

এসব কারণে, বাবা-মা এবং অভিভাবকদের উচিত ছোটদের AI সঙ্গীদের ব্যবহারের বিষয়ে খুব সতর্ক থাকা। তাদের সাথে খোলামেলা আলোচনা করা, AI কী এবং কীভাবে কাজ করে তা বোঝানো, এবং তাদের অনলাইন কার্যকলাপের উপর নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি। সত্যিকারের বন্ধুত্বের গুরুত্ব এবং বাস্তব জগতের মানুষের সাথে যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা ছোটদের শেখানো আমাদের সবার দায়িত্ব।

Post a Comment

Previous Post Next Post