এআইতে লিঙ্গ বৈষম্য: সমস্যার মূলে আঘাত হানুন

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সে (এআই) লিঙ্গ বৈষম্য: সমস্যা ও সমাধান

আজকাল আমাদের জীবনে এআই বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স খুব সাধারণ একটা ব্যাপার হয়ে গেছে। আমরা হয়তো টেরই পাচ্ছি না, কিন্তু মোবাইল থেকে শুরু করে ইন্টারনেট ব্রাউজিং, সবখানেই এআই তার কাজ করে যাচ্ছে। তবে এর একটা অন্ধকার দিকও আছে, যেটা নিয়ে কথা বলা খুব দরকারি – সেটা হলো লিঙ্গ বৈষম্য। কীভাবে এই বৈষম্য এআই সিস্টেমে ঢুকে পড়ে আর এর থেকে বাঁচার উপায় কী, চলেন জেনে নিই।

সহজ কথায়, এআইতে লিঙ্গ বৈষম্য মানে হলো, একটা এআই প্রোগ্রাম যখন কোনো নির্দিষ্ট লিঙ্গের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখায়। যেমন, ধরেন একটা এআই সিস্টেম কিছু মানুষের চাকরির আবেদন দেখছে, বা কাকে লোন দেওয়া হবে সেটা ঠিক করছে। যদি দেখা যায়, পুরুষদের তুলনায় নারীদের প্রতি এআইটা অযথা কঠোর হচ্ছে বা তাদের কম সুযোগ দিচ্ছে, তাহলে সেটাকে লিঙ্গ বৈষম্য বলা হবে।

এই পক্ষপাতিত্ব সাধারণত দুইভাবে এআইতে আসে। প্রথমত, ডেটা বা তথ্য থেকে। এআইকে শেখানোর জন্য যে বিশাল ডেটাসেট ব্যবহার করা হয়, তাতে যদি আগে থেকেই সমাজে প্রচলিত লিঙ্গ বৈষম্য থাকে (যেমন, ইতিহাসে বেশিরভাগ ডাক্তার পুরুষ ছিলেন, এমন ডেটা), তাহলে এআইও সেই ভুলটাই শিখবে। দ্বিতীয়ত, অ্যালগরিদম ডিজাইনের সময়। অনেক সময় যারা অ্যালগরিদম তৈরি করেন, তাদের অজান্তেই কিছু এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা শেষ পর্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট ফলাফল দেয়।

লিঙ্গ বৈষম্যের ক্ষতিকর দিকগুলো কী?

এটার প্রভাব কিন্তু অনেক গুরুতর হতে পারে। যেমন, স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে নারীদের শারীরিক সমস্যাকে কম গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমে হয়তো নারীদের মুখ চিনতে ভুল করতে পারে। আবার, চাকরি খোঁজার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে নারীদের বাদ দিয়ে দেওয়া হতে পারে। এতে সমাজে যে বৈষম্য আগে থেকেই আছে, সেটা আরও শক্তপোক্ত হয়ে যায়, যা আমরা কেউই চাই না।

তাহলে এই সমস্যার সমাধান কীভাবে করা যায়?

এই বৈষম্য মোকাবিলায় কিছু জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে:

  • ভালো ডেটা ব্যবহার করা: এআইকে শেখানোর জন্য এমন ডেটা ব্যবহার করতে হবে, যেখানে লিঙ্গ বৈষম্য নেই এবং নারী-পুরুষের তথ্য সমানভাবে আছে।
  • অ্যালগরিদম ঠিকমতো পরীক্ষা করা: যারা এআই তৈরি করেন, তাদের নিয়মিতভাবে অ্যালগরিদমগুলো পরীক্ষা করে দেখতে হবে, যেন এর ভেতরে কোনো লুকানো পক্ষপাত না থাকে।
  • সবার অংশগ্রহণ: এআই তৈরির প্রক্রিয়ায় নারী-পুরুষ উভয়কেই সমানভাবে যুক্ত করা উচিত। এতে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যাগুলো দেখা যাবে এবং সমাধান বের করা সহজ হবে।
  • কঠিন নিয়মকানুন তৈরি: এআই ডেভেলপমেন্টের জন্য এমন নিয়মকানুন ও আইন তৈরি করা দরকার, যা লিঙ্গ বৈষম্য আটকাতে সাহায্য করবে।
  • মানুষকে জানানো: সাধারণ মানুষকে এআইতে লিঙ্গ বৈষম্য কতটা গুরুতর একটা সমস্যা, সেটা সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।

এআই এর ভবিষ্যৎ অনেক সম্ভাবনাময়, এটা সত্যি। কিন্তু এর পুরো সুবিধা তখনই আমরা পাবো, যখন এর ভেতরের এই ধরনের সমস্যাগুলো ঠিক করতে পারবো। লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা শুধু প্রযুক্তির উন্নতির জন্য নয়, বরং একটা সুন্দর, ন্যায়পরায়ণ ও সমানাধিকারভিত্তিক সমাজ তৈরির জন্যও খুব জরুরি।

Post a Comment

أحدث أقدم