এআই এবং শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা

এআই কি স্কুলের বাচ্চাদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা নষ্ট করে দিচ্ছে?

আজকাল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই (AI) সবখানে। স্কুল থেকে শুরু করে কলেজ, অফিস—কোথাও এআই-এর প্রভাব থেকে বাদ নেই। তবে একটা বড় প্রশ্ন উঠেছে, এআই কি সত্যিই আমাদের ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার ক্ষমতাটা নষ্ট করে দিচ্ছে?

একদিকে এআই শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক সুবিধা নিয়ে এসেছে। ধরুন, কোনো কঠিন বিষয় বুঝতে পারছেন না, এআই চ্যাটবট আপনাকে সহজ করে বুঝিয়ে দিচ্ছে। দ্রুত তথ্য খুঁজে বের করা বা অ্যাসাইনমেন্টের জন্য আইডিয়া নেওয়া, এসব ক্ষেত্রে এআই খুবই কাজের। এতে শিক্ষার্থীরা অনেক দ্রুত শিখতে পারছে।

কিন্তু উল্টো দিকে একটা সমস্যাও আছে। যখন শিক্ষার্থীরা কোনো কিছু নিজে নিজে গভীরভাবে চিন্তা না করে এআই-এর ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন তাদের নিজস্ব বিশ্লেষণ ক্ষমতা কমে যায়। একটা উত্তর বা সমাধান সরাসরি পেয়ে গেলে, সেটার পেছনের যুক্তি বা প্রক্রিয়া নিয়ে তারা আর মাথা ঘামাতে চায় না।

সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা মানে হলো কোনো তথ্যকে বিচার করা, বিভিন্ন দিক থেকে বিশ্লেষণ করা এবং নিজের মতামত তৈরি করা। যদি এআই সব কাজ করে দেয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা কীভাবে এই দক্ষতাগুলো অর্জন করবে? তারা হয়তো উত্তর মুখস্থ করবে, কিন্তু কেন সেই উত্তরটা সঠিক, তা বুঝবে না।

তবে এর একটা সমাধান আছে। এআইকে যদি আমরা শুধু একটা টুল হিসেবে ব্যবহার করি, তাহলে এটা ক্ষতির বদলে উপকারই করবে। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের শেখাতে পারেন কীভাবে এআই-কে সঠিক প্রশ্ন করতে হয়, এআই থেকে পাওয়া তথ্য কীভাবে যাচাই করতে হয় এবং নিজেদের মতো করে বিশ্লেষণ করতে হয়।

যেমন, এআই দিয়ে একটা গবেষণাপত্রের প্রাথমিক ধারণা নিতে বলা যেতে পারে, কিন্তু লেখার মূল কাজ আর চিন্তাভাবনা শিক্ষার্থীদেরই করতে হবে। এভাবে এআই তাদের চিন্তাভাবনাকে আরও শাণিত করতে সাহায্য করবে, নষ্ট করবে না।

আসলে, এআই নিজে খারাপ নয়। আমাদের দেখতে হবে আমরা কীভাবে এটাকে ব্যবহার করছি। সঠিক নির্দেশনা আর ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা এআই-কে শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার বিকাশে একটা শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারি, যাতে তারা ভবিষ্যতের জন্য আরও তৈরি হতে পারে।

Post a Comment

أحدث أقدم