এআই কেন কিছু কাজ দ্রুত বদলে দিচ্ছে, অন্যদের চেয়ে?

এআই কেন কিছু কাজ দ্রুত বদলে দিচ্ছে, অন্যদের চেয়ে?

আজকাল সব জায়গায় একটা কথা খুব শোনা যাচ্ছে – এআই নাকি আমাদের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে। আসলে ব্যাপারটা কিন্তু অত সহজ নয়। এআই সব চাকরি এক গতিতে বদলে দিচ্ছে না। কিছু কাজ আছে যেগুলো এআই খুব দ্রুত দখল করছে, আবার কিছু কাজ এখনো মানুষের জন্য নিরাপদ। চলুন, জেনে নিই কেন এমনটা হচ্ছে।

কোন কাজগুলো এআই দ্রুত বদলে দিচ্ছে?

কিছু কাজ আছে যেখানে এআই খুব দ্রুত তার জায়গা করে নিচ্ছে। যেসব কাজ খুব পুনরাবৃত্তিমূলক (repetitive), যেখানে একই ধরনের তথ্য নিয়ে বারবার কাজ করতে হয়, বা যেগুলোর নিয়মকানুন খুব পরিষ্কার – সেগুলোতে এআই মানুষের চেয়ে অনেক দ্রুত আর নির্ভুলভাবে কাজ করতে পারে। এই ধরনের কাজগুলোর বৈশিষ্ট্য হলো:

  • পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ: যে কাজগুলো বারবার একই প্যাটার্নে করা হয়, সেখানে এআই সহজেই মানুষের চেয়ে ভালো পারফর্ম করে।
  • ডেটা প্রসেসিং: প্রচুর ডেটা সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং প্রক্রিয়াজাত করার ক্ষেত্রে এআই অসাধারণ।
  • স্পষ্ট নিয়মকানুন: যদি কোনো কাজের জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়ম বা অ্যালগরিদম থাকে, এআই সেই কাজগুলো অনায়াসে করতে পারে।
  • স্বল্প সৃজনশীলতা: যে কাজগুলোতে সৃজনশীলতা বা মানবিক অনুভূতির তেমন দরকার হয় না।

যেমন ধরুন, ডেটা এন্ট্রি, সাধারণ কাস্টমার সার্ভিস (যেমন চ্যাটবট), ফ্যাক্টরিতে একই জিনিস বারবার জোড়া লাগানো বা কিছু বেসিক অ্যাকাউন্টিংয়ের কাজ। এআই এই ধরনের কাজে খুব সহজে মানুষের জায়গা নিতে পারে, কারণ এখানে সৃজনশীলতা বা মানবিক অনুভূতির তেমন দরকার হয় না।

কোন কাজগুলো এখনও মানুষের জন্য নিরাপদ?

অন্যদিকে, কিছু কাজ আছে যেখানে এআই সহজে ঢুকতে পারবে না। যে কাজগুলোতে গভীর চিন্তাভাবনা, সৃজনশীলতা, মানুষের সাথে সংবেদনশীল যোগাযোগ, জটিল সমস্যা সমাধান বা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার হয়, সেগুলোতে মানুষই এখনও সেরা। এই কাজগুলোর বিশেষত্ব হলো:

  • সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবন: নতুন আইডিয়া তৈরি, শিল্পকর্ম সৃষ্টি বা মৌলিক গবেষণা।
  • জটিল সমস্যা সমাধান: এমন সমস্যা যার জন্য কোনো পূর্বনির্ধারিত সমাধান নেই বা একাধিক অজানা চলক জড়িত।
  • মানবিক যোগাযোগ ও আবেগ: সহমর্মিতা, সহানুভূতি এবং জটিল সামাজিক পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা।
  • নীতিগত বিচার: নৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া বা মূল্যবোধ-ভিত্তিক পরিস্থিতিতে বিচার করা।
  • শারীরিক নৈপুণ্য: এমন কাজ যেখানে সূক্ষ্ম শারীরিক দক্ষতা এবং অপ্রত্যাশিত পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা লাগে।

ডাক্তার, শিক্ষক, শিল্পী, দক্ষ কারিগর, বা এমন ম্যানেজার যারা কর্মীদের অনুপ্রাণিত করেন – এই ধরনের কাজগুলো এআইয়ের জন্য এখনও অনেক কঠিন। কারণ এআইয়ের এখনও মানবিক বিচারবোধ, সহমর্মিতা বা আসল সৃজনশীলতা নেই। একজন চিকিৎসক যেমন রোগীর কথা শুনে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নেন, বা একজন শিক্ষক যেভাবে শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী পড়ান, তা এআইয়ের পক্ষে করা এখনো প্রায় অসম্ভব।

এআইয়ের সীমাবদ্ধতা

এআই শুধুমাত্র তার শেখানো ডেটার উপর নির্ভর করে কাজ করে। নতুন বা অপ্রত্যাশিত কোনো পরিস্থিতিতে সে মানিয়ে নিতে পারে না। তাই মানবিক যোগাযোগ, জটিল আবেগ বোঝা বা নতুন কিছু তৈরি করার মতো কাজগুলোতে মানুষের গুরুত্ব সব সময় থাকবে। এআই শুধুমাত্র টুলস হিসেবে কাজ করে, যা মানুষের কাজকে সহজ করতে পারে, কিন্তু পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে পারে না, বিশেষ করে যেখানে 'মানুষের ছোঁয়া' প্রয়োজন।

ভবিষ্যতের জন্য আমাদের প্রস্তুতি

এআই আসছে মানেই যে সব চাকরি চলে যাবে, তা নয়। বরং আমাদের শিখতে হবে কিভাবে এআইয়ের সাথে কাজ করা যায়, নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে যেন আমরা নতুন ধরনের কাজের জন্য প্রস্তুত থাকতে পারি। ভবিষ্যতের জন্য তৈরি থাকাই এখন বুদ্ধিমানের কাজ। যেমন, ডেটা অ্যানালাইসিস, এআই সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট, ক্রিয়েটিভ রাইটিং বা জটিল সমস্যা সমাধানের মতো দক্ষতাগুলো আগামীতে খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post