এআই আসছে, সাদা কলারের চাকরি কি বিপদে? শীর্ষ সিইও-র হুঁশিয়ারি

শীর্ষ এআই সিইও-র সতর্কবার্তা: হোয়াইট-ক্লার চাকরির ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার?

সম্প্রতি একজন শীর্ষ এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) সিইও এমন এক ভবিষ্যৎবাণী করেছেন যা শুনে অনেকেই চমকে গেছেন। তার মতে, এআইয়ের দ্রুত উন্নতির কারণে আগামীতে হাজার হাজার 'হোয়াইট-ক্লার' অর্থাৎ অফিসের কাজ করা মানুষ তাদের চাকরি হারাতে পারেন। এই খবর অনেক পেশাদার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এই সিইও বলেছেন যে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স খুব দ্রুত এমন কিছু কাজ শিখছে যা আগে শুধুমাত্র মানুষেরাই পারতো। যেমন, তথ্য বিশ্লেষণ করা, রিপোর্ট লেখা, কাস্টমার সার্ভিস দেওয়া বা এমনকি জটিল হিসাব মেলানো। এর ফলে অনেক কোম্পানি খরচ কমাতে এআই ব্যবহার করা শুরু করবে, যা সরাসরি মানুষের চাকরির ওপর প্রভাব ফেলবে।

বিশেষ করে ব্যাংক, ইনস্যুরেন্স, পরামর্শক সংস্থা এবং প্রশাসনিক পদে কর্মরত ব্যক্তিরা এই ঝুঁকির মধ্যে আছেন। ধারণা করা হচ্ছে, যে কাজগুলো বারবার একইরকমভাবে করতে হয়, সেগুলোতে এআই খুব সহজেই মানুষের জায়গা নিতে পারবে। এআইয়ের আগমন মানব শ্রমের গুরুত্ব কমিয়ে দিতে পারে, বিশেষ করে পুনরাবৃত্তিমূলক এবং ডেটা-ভিত্তিক কাজগুলিতে।

তাহলে কি মানুষের চাকরি একেবারেই চলে যাবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাপারটা এত সহজ নয়। বরং মানুষ ও এআই একসঙ্গে কাজ করবে, যেখানে এআই মানুষের সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। তবে এর জন্য মানুষকে নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হবে, এআই টুলস ব্যবহার করতে শিখতে হবে এবং নিজেদের কাজের ধরন পরিবর্তন করতে হবে। সৃজনশীলতা, জটিল সমস্যা সমাধান এবং আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার মতো মানবিক গুণাবলি সবসময়ই মূল্যবান থাকবে।

আসলে, প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে কাজের ধরন বদলায়। কম্পিউটার আসার সময়ও এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। এখন এআইয়ের যুগেও একই চ্যালেঞ্জ। যারা নিজেদের নতুন পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে পারবে, নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করবে এবং নিজেদের দক্ষতা বাড়াবে, তাদের জন্য সুযোগের অভাব হবে না। এই পরিবর্তনকে ভয় না পেয়ে, এর সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

Post a Comment

أحدث أقدم