ট্রাম্পের আমলে অভিবাসন নীতিতে এআইয়ের ভূমিকা

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে এআই ব্যবহার: কী ঘটেছিল?

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়কালে মার্কিন অভিবাসন নীতিতে একটা বড় পরিবর্তন এসেছিল, যার মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার ছিল অন্যতম। প্রশাসন চেয়েছিল এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও 'দক্ষ' এবং 'নিরাপদ' করতে।

বিভিন্ন ডেটা বিশ্লেষণ, নজরদারি, এমনকি সীমান্ত সুরক্ষাতেও এআই-এর প্রয়োগ দেখা গিয়েছিল। এর মাধ্যমে অভিবাসীদের তথ্য যাচাই করা, ঝুঁকিপূর্ণ প্রোফাইল চিহ্নিত করা এবং সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর মতো কাজগুলো করা হতো। যেমন, ফেসিয়াল রিকগনিশন এবং প্যাটার্ন অ্যানালাইসিসের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ট্র্যাক করার চেষ্টা করা হতো।

তবে, এই এআই ব্যবহারের কারণে অনেক বিতর্কও তৈরি হয়েছিল। সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, এই প্রযুক্তিগুলো কতটা পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে, বিশেষ করে জাতিগত বা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি। এছাড়া, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।

অনেক মানবাধিকার সংস্থা এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছিলেন। তারা দাবি করেন যে, এআই ব্যবহারের ফলে ভুল তথ্য বিশ্লেষণ এবং নিরীহ মানুষের ওপর অন্যায় প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর ফলে অভিবাসীদের মধ্যে এক ধরনের ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে এআই-এর ব্যবহার একদিকে যেমন প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছিল, তেমনি অন্যদিকে এর নৈতিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে গভীর প্রশ্ন তৈরি করেছিল। এটি ভবিষ্যতে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নীতিমালা তৈরির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

Post a Comment

أحدث أقدم