দক্ষিণ কোরিয়া: এশিয়ার এআই হাব হয়ে ওঠার গল্প

দক্ষিণ কোরিয়া: এশিয়ার এআই রাজধানী হয়ে ওঠার পেছনের গল্প

প্রযুক্তি জগতে দক্ষিণ কোরিয়া যে সব সময় সামনের সারিতে থাকে, সেটা আমরা কমবেশি সবাই জানি। তবে ইদানিং তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) নিয়ে যেভাবে কাজ করছে, তা রীতিমতো তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো। অনেকে তো দক্ষিণ কোরিয়াকে এশিয়ার এআই রাজধানী বলতে শুরু করে দিয়েছেন। ভাবছেন, কীভাবে তারা এই জায়গায় এলো?

আসলে, দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার, বড় বড় কোম্পানি আর গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো গত কয়েক বছর ধরে এআই খাতে বিশাল বিনিয়োগ করছে। তাদের লক্ষ্য একটাই – এআই প্রযুক্তিতে বিশ্বজুড়ে নেতৃত্ব দেওয়া। এই কারণেই তারা এখন জাপান, চীন বা সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোকেও টেক্কা দিচ্ছে।

সরকারের জোর সাপোর্ট

দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারের এআই নিয়ে ভাবনাটা পরিষ্কার। তারা শুধু কয়েকটা খাতে মনোযোগ না দিয়ে, পুরো অর্থনীতিতেই এআই-কে কাজে লাগাতে চাইছে। এর জন্য তারা বেশ কিছু দারুণ পদক্ষেপ নিয়েছে:

  • বিনিয়োগ: সরকার বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে এআই গবেষণা ও উন্নয়নে।
  • মানবসম্পদ উন্নয়ন: এআই এক্সপার্ট তৈরি করার জন্য তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কোর্স চালু করছে, আর ট্রেনিং প্রোগ্রামের ব্যবস্থা করছে।
  • এআই হাব তৈরি: সিউলে বড় বড় এআই গবেষণা কেন্দ্র ও স্টার্টআপ হাব গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে নতুন নতুন আইডিয়া দ্রুত বাস্তবে রূপ নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার এই পরিকল্পিত উদ্যোগই তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তারা শুধু প্রযুক্তির দিক থেকে নয়, বরং মানবসম্পদ তৈরিতেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।

কোম্পানিগুলোর সক্রিয় ভূমিকা

স্যামসাং, এলজি, হুন্দাই-এর মতো দক্ষিণ কোরিয়ার বড় বড় টেক জায়ান্টগুলো এআই গবেষণায় নিজেদের পুরো শক্তি ঢেলে দিচ্ছে। তারা স্মার্টফোন, হোম অ্যাপ্লায়েন্সেস, গাড়ি, রোবটিক্স এবং স্বাস্থ্য খাতে এআই-এর ব্যবহার বাড়াচ্ছে। ধরুন, স্যামসাং-এর নতুন ফোনে আপনি যে এআই ফিচারগুলো দেখছেন, তার পেছনে আছে বহু বছরের গবেষণা। এলজি স্মার্ট হোম ডিভাইসগুলোতে এআই ব্যবহার করে আপনার দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ করে তুলছে। এমনকি গাড়িতেও ড্রাইভিং সেফটি বা নেভিগেশনে এআই-এর ব্যবহার বাড়ছে হুন্দাই-এর হাত ধরে।

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা

দক্ষিণ কোরিয়ার লক্ষ্য শুধু এশিয়ার নয়, পুরো বিশ্বের এআই লিডার হওয়া। তারা চাইছে ২০৩০ সালের মধ্যে এআই-এর মাধ্যমে দেশের জিডিপি (GDP) অনেকটাই বাড়াতে। এর জন্য তারা নতুন নতুন স্টার্টআপকে উৎসাহ দিচ্ছে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছে, আর আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও বাড়াচ্ছে। তাদের এই পরিকল্পনা যদি সফল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আমরা আরও অনেক অত্যাধুনিক এআই প্রযুক্তি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে পেতে যাচ্ছি, যা আমাদের জীবনযাত্রার মানকে আরও উন্নত করবে।

সব মিলিয়ে, দক্ষিণ কোরিয়ার এআই নিয়ে যে স্বপ্ন আর কাজ, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তারা শুধু প্রযুক্তি তৈরি করছে না, বরং এআই-কে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলার চেষ্টা করছে। আর এই কারণেই তারা এশিয়ার এআই রাজধানী হিসেবে নিজেদের জায়গাটা পাকাপোক্ত করছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post